শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
৪ঠা আশ্বিন, ১৪৩৩

ডেইলি বরিশাল

দক্ষিণাঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় ও বস্তুনিষ্ঠ দৈনিক পত্রিকা

জাতীয়

'তোমরা মারো না কেন, মারো'—সাদ্দামকে বলেছিলেন কাদের

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানান, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ছাত্রলীগ নেতাদের মারধরের জন্য সরাসরি উসকানি দিয়েছিলেন। বুধবার ট্রাইব্যুনাল সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেয়।

রাহুল হাসান· প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫:৪৯ অপরাহ্ণসর্বশেষ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫:৪৯ অপরাহ্ণ
'তোমরা মারো না কেন, মারো'—সাদ্দামকে বলেছিলেন কাদের

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম সংবাদে জানান, কার্যক্রম নিষিদ্ধ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের সঙ্গে কথোপকথনের সময় আন্দোলনকারীদের মারধরের জন্য উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছিলেন। রায়ের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য উন্মোচন করেন চিফ প্রসিকিউটর।

মৃত্যুদণ্ডের রায় ও প্রসিকিউশনের বিবরণ

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর সোয়া ১২টায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন। আসামিদের মধ্যে রয়েছেন ওবায়দুল কাদেরসহ অন্যান্য প্রধান নেতাকর্মী। রায়ের পরই সাংবাদিকদের কাছে বিস্তারিত আলোচনা করেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

'দেখা মাত্রই গুলি'—কাদেরের নির্দেশনা

চিফ প্রসিকিউটরের বক্তব্য অনুযায়ী, ওবায়দুল কাদের সাদ্দাম হোসেনকে সরাসরি বলেছিলেন—'তোমরা মারো না কেন? মারো।' এভাবে ছাত্রলীগকে নানাভাবে উসকানি দিয়েছিলেন কাদের। তিনি আরও জানান, কাদের 'দেখা মাত্রই গুলি' করার নির্দেশনাও দিয়েছিলেন। ১১ জুলাই সাদ্দামকে 'মারো না কেন, মারো' বলা হওয়ার পরপরই ১৬ জুলাই ওয়াসিম, আবু সাঈদসহ অনেক নিরীহ মানুষ প্রাণ হারান।

১৪০০ মানুষের হত্যা, ২৫ হাজার পঙ্গু

চিফ প্রসিকিউটর আরও জানান, ১৯ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত নির্বিচারে গুলি চালিয়ে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষকে হত্যা করা হয়। এই সময় প্রায় ২৫ হাজার মানুষ গুলিতে আহত হয়ে পঙ্গুত্ববরণ করেন। আমিনুল ইসলাম বলেন, ওবায়দুল কাদের স্বীকার করেছিলেন যে এ আন্দোলন দমন করার জন্য ছাত্রলীগই যথেষ্ট ছিল। এই সমস্ত কর্মকাণ্ডের কারণেই সারাদেশে এত বড় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে এবং ব্যাপক পঙ্গুত্ব সৃষ্টি হয়েছে।

সামগ্রিক অপরাধের স্বীকৃতোক্তি

চিফ প্রসিকিউটর প্রকাশ্যে জানান, আসামিদের উসকানিমূলক বক্তব্য ও বিভিন্ন পরিকল্পিত সিদ্ধান্তের কারণে সারা দেশে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আজ্ঞাবহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা একত্র হয়ে নির্বিচারে মানুষকে গুলি করে হত্যা করেন। এই সামগ্রিক ঘটনাকে তিনি সারাদেশে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে অভিহিত করেন।

📢এই সংবাদটি শেয়ার করুন

📢 আপনিও হোন পাঠক সাংবাদিক!

আপনার এলাকার যেকোনো খবর, সমস্যা বা ভিডিও সরাসরি আমাদের নিউজ পোর্টালে জমা দিন

সংবাদ পাঠান ↗

রাহুল হাসান

প্রতিবেদক

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, দৈনিক প্রতিদিন। সাংবাদিকতায় ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ