মন্ত্রিসভায় সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামো অনুমোদনের প্রায় দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও, নতুন পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন এখনো জারি হয়নি। গত ৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল, সপ্তাহখানেকের মধ্যেই গেজেট প্রকাশ করা সম্ভব হতে। তবে প্রত্যাশার পরিপন্থী পরিস্থিতিতে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা গেছে, নতুন বেতন কাঠামোর সারাংশ এখনো আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। আগামী বুধবারের মধ্যে ভেটিং সম্পন্ন করা গেলে চলতি মাসেই গেজেট প্রকাশ হতে পারে। তবে প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় কিছুটা বিলম্ব হলে সময় পিছিয়ে যেতে পারে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, নবম পে স্কেলের গেজেট প্রকাশের জন্য ১৭, ২১ অথবা ২২ সেপ্টেম্বর—এ তিনটি সম্ভাব্য তারিখ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
খসড়া প্রস্তুতে বাধা কী কী?
সাবেক সচিব ড. মো. আনোয়ার উল্ল্যাহ ব্যাখ্যা করেন, মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের জন্য যে খসড়া পাঠানো হয়, সেখানে মূলত কোন গ্রেডে কত টাকা বেতন ভাতা বাড়ানো হবে তার সামগ্রিক প্রস্তাব থাকে। কিন্তু অনুমোদনের পর প্রজ্ঞাপনের বিস্তারিত খসড়া তৈরি করতে হয়, যেখানে কর্মকর্তা কর্মচারীদের কোন শ্রেণিতে কীভাবে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন হবে তার বিস্তারিত নির্দেশনা উল্লেখ করা হয়।
তিনি জানান, জনপ্রশাসনের পাশাপাশি সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), পুলিশ, সরকারি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা কর্মচারীদের বেতন ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা কীভাবে এবং কোন প্রক্রিয়ায় কার্যকর হবে, সেটিও প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট করতে হয়। আগে থেকে প্রস্তুতি না থাকলে এসব কাজ শেষ করতে সময় লাগতে পারে।
আইন মন্ত্রণালয়ে এখনো খসড়া পৌঁছায়নি
আইন মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এখনো পে স্কেলের খসড়া তাদের কাছে পৌঁছায়নি। তিনি বলেন, গত সপ্তাহে শুনা হয়েছিল, দুই এক দিনের মধ্যেই অনুমোদিত পে স্কেলের খসড়াটি ভেটিংয়ের জন্য তাদের কাছে পাঠানো হবে, কিন্তু এখন পর্যন্ত সেটি তাদের হাতে আসেনি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে অর্থ মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের আরেক কর্মকর্তা জানান, পে স্কেলের গেজেট জারির দিনক্ষণ এখনো চূড়ান্ত হয়নি, তবে একাধিক সম্ভাব্য সময় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
সাবেক আমলাদের যুক্তি: সময় লাগা স্বাভাবিক
সাবেক মন্ত্রিপরিষদসচিব আলী ইমাম মজুমদার মনে করেন, মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর গেজেট প্রকাশের আগে বেশ কিছু প্রশাসনিক ও আইনগত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। এসব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কয়েক সপ্তাহ, এমনকি অনেক সময় মাসও লেগে যেতে পারে। তবে দীর্ঘদিন পর নতুন পে স্কেল ঘোষণা হওয়ায় এবার মানুষের প্রত্যাশা বেশি থাকায় কিছুটা হতাশাও তৈরি হয়েছে।






